আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির বার্তা দিলো যৌথ বাহিনী। যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা কঠোরভাবে মোকাবিলার সক্ষমতা প্রদর্শনে কেরানীগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে যৌথ বাহিনীর একটি সমন্বিত মোটরসাইকেল মহড়া।
কেরানীগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এই মহড়া পরিচালিত হয়। নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, টহল জোরদার এবং বাহিনীগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় যাচাই করাই ছিল এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।
মহড়াটি ধলেশ্বরী টোল প্লাজা থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকা প্রদক্ষিণ করে। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী মোটরসাইকেল বহরটি ধলেশ্বরী টোল প্লাজা → আব্দুল্লাহপুর → কদমতলী → জনি টাওয়ার মোড় → জিনজিরা টিন পট্টি → বাবু বাজার ব্রিজ → হাসনাবাদ → ইকুরিয়া → রাজেন্দ্রপুর → পুনরায় আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় এসে সমাপ্ত হয়।
মহড়ায় সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এতে সেনাবাহিনীর ১০টি, র্যাবের ৪টি, বিজিবির ৪টি এবং পুলিশের ৬টি মোটরসাইকেল অংশ নেয়। সশস্ত্র ও পূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ সদস্যদের উপস্থিতি পুরো এলাকায় দৃশ্যমান নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে।
মহড়া চলাকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার এলাকা, সেতু সংযোগপথ এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করা হয়। সন্দেহজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক মোতায়েন, রুট ক্লিয়ারেন্স, কুইক রেসপন্স টিমের চলাচল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতা সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সামরিক সূত্র জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে যৌথ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতেই এ ধরনের মহড়া নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যৌথ বাহিনীর এমন টহল ও মহড়া জনমনে আস্থা বাড়িয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি স্বস্তি দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন সময় যত ঘনিয়ে আসবে, ততই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত মহড়া ও টহল কার্যক্রম বাড়বে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নাশকতাকারীদের প্রতি কঠোর বার্তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও জোরদার হচ্ছে।
যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জন কথা ডেস্ক 








