আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা–২ আসনে সহিংসতা ও নাশকতার আশঙ্কার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ আমান উল্লাহ আমান। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা মঞ্চ থেকেই তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টি, সহিংসতা ছড়ানো এবং বোমাবাজির মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা হতে পারে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারানগর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে অবস্থিত ঢাকা–২ আসনের ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় কার্যালয় প্রাঙ্গণে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যায়।
ইশতেহার ঘোষণার শেষাংশে এসে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, ঢাকা–২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত উসকানি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শাক্তা, বাস্তা ও তারানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে নির্বাচনী ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, পোস্টার নষ্ট করা এবং নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে অহেতুক বিষোদ্গার করে সাধারণ মানুষকে সংঘর্ষে জড়াতে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরো বক্তব্যে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়গুলো ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি মহল সহিংসতার মাধ্যমে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। ভোটের দিন কেন্দ্র দখল, গোলযোগ সৃষ্টি এমনকি বোমাবাজির মতো নাশকতাও ঘটতে পারে—যার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে একইসঙ্গে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিএনপির এই প্রার্থী। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে তারা কাজ করছে—এটি ইতিবাচক দিক। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর অবস্থান কামনা করেন তিনি।
নির্বাচনী সহিংসতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি ইশতেহারে স্থানীয় উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন আমান উল্লাহ আমান।
তিনি কেরানীগঞ্জকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপদ নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
কৃষি উন্নয়নে খালকাটা কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে—যা কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।
শিক্ষা বিস্তারে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
চিকিৎসা খাতে তিনি ঘোষণা করেন, ঢাকা–২ আসনের সাভার অংশে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বিদ্যমান হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিশেষ সেল গঠন, আইনি সহায়তা প্রদান এবং হয়রানি প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

জন কথা ডেস্ক 








